বনবাসের সময় ভগবান রাম লক্ষণ এবং সীতা দক্ষিণের দিকে যাত্রা করেন। দক্ষিণের দিকে তারা গোদাবরী নদী পার হয়ে পঞ্চবটী বনে বসত ঘর নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন।
ভারতের মহারাষ্ট্রে নাসিকে অবস্থিত পঞ্চবটী বনে রাম লক্ষণ এবং সীতা দেবী অবস্থান করেছিলেন । এখানেই রাবণের বোন শূর্পণখা রামের কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখেন এবং রামের ভাই লক্ষ্মণ শাস্তি হিসেবে শূর্পণখার নাক কেটে দেন। পঞ্চবটী বন থেকেই রাবণ সীতা দেবীকে অপহরণ করেন।
রাবণ সীতা দেবীকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরে রাম ও রাবণের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সীতা দেবীকে উদ্ধারের পর অযোধ্যায় রাম ও মা সীতার সংসার জীবন যখন সুখে কাটছিল তখন সীতার নামে অযোধ্যায় সাধারণ লোকজন নিন্দা শুরু হয়।
ভগবান রামচন্দ্র তখন সীতা দেবীকে রক্ষা করা ও লোকরঞ্জনের নিমিত্তে সীতাবর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। রামের নির্দেশে ভাই লক্ষ্মণ সন্তানসম্ভবা সীতাকে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী বাল্মীকি ঋষির তপোবনে রেখে আসেন। এই ঋষির আশ্রমে জন্ম হয় কুশ ও লবের।
সীতা দেবীকে বনবাসে দেওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরে রামচন্দ্র এক অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। বাল্মীকি ঋষি সেই যজ্ঞস্থলে লব ও কুশকে নিয়ে উপস্থিত হন। উক্ত আসরে লব ও কুশ রামায়ণের গান পরিবেশন করেন। এই গান শুনে ভগবান রামচন্দ্র মুগ্ধ হন। পরে রামচন্দ্র জানতে পারেন যে লব ও কুশ তাঁরই পুত্র।
ঋষি বাল্মীকির কাছ থেকে সমুদয় জেনে এবং বাল্মীকির অনুরোধে সীতা দেবীকে ফিরে আসার অনুমতি দিলেন। এর পরের সীতা দেবী যখন ফিরে আসেন তখন প্রজাদের সামনের রামচন্দ্র তার সতীত্বের পরীক্ষার কথা জানান। এই প্রস্তাবে সীতামা অনেক ব্যথিত হন এবং বসুমতি মায়ের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এরপরে বসুমতি মা সীতা দেবীকে তারপরে আশ্রয় দান করেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন