সীতাভোগ একটি বিখ্যাত মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার। সীতাভোগ দেখতে অনেকটা বাসমতি চালের ভাতের মত। সীতাভোগ বর্ধমানে অনেক বিখ্যাত একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার।


বড়লাট জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন ১৯০৪ সালে বর্ধমানের জমিদার বিজয়চাঁদ মহতাবকে মহারাজা উপাধি যাওয়ার জন্য বর্ধমানে ভ্রমণ করেন। বড়লাট জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জনের বর্ধমান আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন জমিদার বিজয়চাঁদ মহাতাব। এর জন্য তিনি বর্ধমানের জনৈক মিষ্টি প্রস্তুতকারক ভৈরবচন্দ্র নাগকে মিষ্টান্ন তৈরীর জন্য দায়িত্ব দেন। 

সেই সময় বর্ধমানের জনৈক মিষ্টি প্রস্তুতকারক ভৈরবচন্দ্র নাগ সীতাভোগ ও মিহিদানা প্রস্তুত করেন।   বড়লাট জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন খেয়ে এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তিনি পরবর্তীতে সকল সরকারি অনুষ্ঠানে এই সীতাভোগ পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছিলেন।

লর্ড কার্জন এমন অনন্য মিষ্টি পেয় অবাক হয়েছিলেন এবং বৈরবচন্দ্র নাগকে প্রদত্ত শংসাপত্রে প্রশংসা করেছিলেন এবং ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন যে তিনি এর আগে কখনও এমন মিষ্টি পাননি। এরপর এ দুটি মিষ্টির গুণাগুণ ও নাম দেশ-বিদেশে পৌঁছে যায়। 

সীতাভোগের প্রধান উপাদান বিশেষ এক প্রজাতির গোবিন্দভোগ চাল। বিশেষ প্রজাতির এই গোবিন্দভোগ চাল থেকে প্রস্তুত করা হয় বলেই  সীতাভোগের একটি নিজস্ব স্বাদ ও সুগন্ধ তৈরি হয়। উক্ত গোবিন্দভোগ চাল শুধুমাত্র বর্ধমান জেলার এক বিশেষ অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন